গঠনতন্ত্র
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা -১৮নং হাওলার সমাজ,খলিফারহাট(৩৮০৮) সদর,নোয়াখালী।
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা'র ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম।
গঠনতন্ত্র
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা -১৮নং হাওলার সমাজ,খলিফারহাট(৩৮০৮) সদর,নোয়াখালী।
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
গঠনতন্ত্র
(Constitution)
প্রতিষ্ঠার তারিখ
২০ জুন ২০২৬
প্রধান কার্যালয়
গ্রাম: ১৮নং হাওলার সমাজ (কালাদরাপ)
ডাকঘর: খলিফার হাট (৩৮০৮)
উপজেলা: সদর
জেলা: নোয়াখালী, বাংলাদেশ
স্লোগান
"সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান"
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
অরাজনৈতিক • অলাভজনক • মানবসেবামূলক • স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক প্রতিষ্ঠান
প্রথম সংস্করণ/ এবং প্রকাশ।
জুন–২০২৬
ভূমিকা
"মানুষ মানুষের জন্য"—এই মহান আদর্শকে ধারণ করে কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমাজের দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, এতিম, প্রতিবন্ধী, অসুস্থ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই সংস্থা গঠিত হয়েছে।
সংস্থাটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, পেশা বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করাই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।
এই গঠনতন্ত্র সংস্থার পরিচালনা, সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্ব, কার্যনির্বাহী কমিটির ক্ষমতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সভাপতির বাণী
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্ তাআলার নামে শুরু করছি।
মানুষ মানুষের জন্য—এই মহান আদর্শকে ধারণ করে "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা" প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, একটি সুন্দর, মানবিক, শিক্ষিত ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য কেবল ব্যক্তি উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগেরও প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই ২০২৬ সালের ২০ জুন আমাদের এই মানবসেবামূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু।
এই সংস্থা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সমাজের অসহায়, দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।
সংস্থার প্রতিটি সদস্যের কাছে আমার প্রত্যাশা—তারা সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন এবং সংগঠনের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।
এই গঠনতন্ত্র সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা হিসেবে প্রণীত হয়েছে। সংস্থার সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা এই গঠনতন্ত্র মেনে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং একটি আদর্শ মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করবেন।
আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা ভবিষ্যতে মানবসেবা, সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় কল্যাণে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
পরিশেষে, মহান আল্লাহ্ তাআলার নিকট দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করেন।
জয় হোক মানবতার।
বিনীত
মোঃ মহি উদ্দিন(ওমান প্রবাসী)
সভাপতি
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
সহ-সভাপতি
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ্ তাআলার নামে শুরু করছি।
ঐক্য, মানবতা ও সেবার মাধ্যমে গড়ে উঠুক একটি সুন্দর সমাজ”— এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা মানবকল্যাণের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
মানুষের কল্যাণে কাজ করা একটি মহৎ দায়িত্ব। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের এই সংগঠনের পথচলা।
আমি বিশ্বাস করি, একটি সংগঠনের সফলতা নির্ভর করে তার সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর। তাই সংস্থার সকল সদস্যের প্রতি আমার আহ্বান—আমরা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করি এবং একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি।
প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা আমাদের শক্তি। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা ভবিষ্যতে মানবসেবা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
মহান আল্লাহ্ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই মহৎ উদ্যোগকে কবুল করেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করেন।
বিনীত,
মোঃ শাহিদুর রহমান(সৌদি আরব প্রবাসী)
সহ-সভাপতি
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সাধারণ সম্পাদকের বাণী
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ্ তাআলার অশেষ রহমতে "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা"-এর গঠনতন্ত্র প্রকাশ করতে পেরে আমি মহান আল্লাহ্র দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
একটি সংগঠনের সফলতা নির্ভর করে তার সুষ্ঠু পরিচালনা, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং সুস্পষ্ট নীতিমালার ওপর। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমাদের সংস্থার এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি সংস্থার সকল কার্যক্রম পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও মানবসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, রক্তদান, দুর্যোগকালীন সহায়তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
এই গঠনতন্ত্রে সংস্থার উদ্দেশ্য, সদস্যপদ, সাধারণ পরিষদ, কার্যনির্বাহী কমিটি, বিভিন্ন পদাধিকারীর দায়িত্ব, সভা পরিচালনা, নির্বাচন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিধান সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই নীতিমালা অনুসরণ করলে সংস্থার কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।
আমি সংস্থার সকল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, দাতা, প্রবাসী সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
আসুন, আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করি এবং একটি সুন্দর, ঐক্যবদ্ধ, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলি।
মহান আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সকলের নেক প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং এই সংস্থাকে মানবকল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
বিনীত
মোঃ রাকিব(ওমান প্রবাসী)
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা।
-------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রচার সম্পাদকের বাণী
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ্ তাআলার নামে শুরু করছি।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটি সংগঠনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার সঠিক, স্বচ্ছ ও ইতিবাচক প্রচার-প্রচারণার ওপর। কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা মানবসেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার যে মহৎ লক্ষ্য নিয়ে পথচলা শুরু করেছে, সেই বার্তা দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।প্রচার সম্পাদক হিসেবে আমার অঙ্গীকার—সংস্থার সকল কার্যক্রম, সাফল্য, মানবসেবামূলক উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সত্যনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীলভাবে সকলের সামনে তুলে ধরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার করে আমরা সংস্থার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সচেষ্ট থাকব।আমি বিশ্বাস করি, সৎ উদ্দেশ্য, স্বচ্ছতা, ঐক্য এবং সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।আসুন, আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় একসঙ্গে কাজ করি এবং ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।মহান আল্লাহ্ তাআলার নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং মানবকল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করেন।
জয় হোক মানবতার।
জয় হোক সেবার।
বিনীত,
নুরুল ইসলাম
(ওমান প্রবাসী)
প্রচার সম্পাদক
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
নাম, পরিচয়, প্রকৃতি ও কার্যপরিধি:
ধারা–১ : নাম
১.১ এই সংগঠনের নাম "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা"।
১.২ ইংরেজিতে সংস্থার নাম হবে:
Kaladarap Shadhin Sangastha
১.৩ সংস্থাটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবসেবামূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
ধারা–২ : প্রতিষ্ঠা
২.১ সংস্থাটি ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২.২ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সংস্থার সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
২.৩ সংস্থার সকল সদস্য এই গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং এর বিধি-বিধান মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
ধারা–৩ : প্রধান কার্যালয়
৩.১ সংস্থার প্রধান কার্যালয় হবে—
গ্রাম: ১৮নং হাওলার সমাজ (কালাদরাপ)
ডাকঘর: খলিফার হাট (৩৮০৮)
উপজেলা: সদর
জেলা: নোয়াখালী
দেশ: বাংলাদেশ।
৩.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
৩.৩ প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিয়ে "প্রবাসী শাখা" গঠন করা যেতে পারে।
ধারা–৪ : কার্যপরিধি
৪.১ সংস্থার কার্যক্রম বাংলাদেশের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে পরিচালনা করা যাবে।
৪.২ আইনগত অনুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা যেতে পারে।
৪.৩ দুর্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক সকল বৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
ধারা–৫ : সংস্থার প্রকৃতি
এই সংস্থা হবে—
ক) সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক।
খ) অলাভজনক।
গ) স্বেচ্ছাসেবী।
ঘ) মানবসেবামূলক।
ঙ) অসাম্প্রদায়িক।
চ) বৈষম্যহীন।
ছ) গণতান্ত্রিক নীতিতে পরিচালিত।
জ) আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
ঝ) সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান।
ধারা–৬ : সংস্থার পরিচয়
৬.১ কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা একটি জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
৬.২ এই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য সমাজের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
৬.৩ সংস্থা কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালিত হবে না।
৬.৪ সকল আয় ও সম্পদ সংস্থার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হবে।
ধারা–৭ : সংস্থার স্লোগান
"সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।"
এই স্লোগান সংস্থার আদর্শ, উদ্দেশ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
ধারা–৮ : সংস্থার প্রতীক (লোগো)
৮.১ সংস্থার একটি নিজস্ব লোগো থাকবে, যা সংস্থার পরিচয় বহন করবে।
৮.২ লোগোতে ব্যবহৃত রঙ ও নকশা ঐক্য, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও মানবসেবার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
৮.৩ সংস্থার অনুমতি ছাড়া লোগো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে না।
ধারা–৯ : সিলমোহর
৯.১ সংস্থার নিজস্ব গোলাকার সরকারি সিলমোহর থাকবে।
৯.২ সিলমোহরে সংস্থার নাম, প্রতিষ্ঠার সাল এবং প্রধান কার্যালয়ের উল্লেখ থাকবে।
৯.৩ শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মকর্তা সংস্থার সিল ব্যবহার করতে পারবেন।
ধারা–১০ : ভাষা
১০.১ সংস্থার সরকারি ভাষা হবে বাংলা।
১০.২ প্রয়োজনে ইংরেজি ভাষায় অফিসিয়াল অনুবাদ বা যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ভিশন, মিশন, মূলনীতি ও উদ্দেশ্য
ধারা–১১ : ভিশন (Vision)
"একটি মানবিক, শিক্ষিত, ঐক্যবদ্ধ, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি মানুষ মর্যাদা, অধিকার ও সমান সুযোগ নিয়ে বসবাস করতে পারবে।"
সংস্থার ভিশন বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা, মানবসেবা, সামাজিক উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ধারা–১২ : মিশন (Mission)
সংস্থার মিশন হলো—
১। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
২। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৩। মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা।
৪। যুবসমাজকে দক্ষ, সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।
৫। দুর্যোগ ও সংকটকালে মানবিক সহায়তা প্রদান করা।
৬। সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
ধারা–১৩ : মূলনীতি
সংস্থার সকল কার্যক্রম নিম্নোক্ত মূলনীতির আলোকে পরিচালিত হবে—
১। মানবতা
২। সততা
৩। স্বচ্ছতা
৪। জবাবদিহিতা
৫। ন্যায়পরায়ণতা
৬। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
৭। শৃঙ্খলা
৮। সামাজিক সম্প্রীতি
৯। বৈষম্যহীনতা
১০। সেবার মানসিকতা
১১। স্বেচ্ছাসেবার চেতনা
১২। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা
ধারা–১৪ : সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য
সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণে নিবেদিত বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এ লক্ষ্যে সংস্থা নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে—
১। অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতা করা।
২। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৩। এতিম, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
৪। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গঠন।
৫। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও চিকিৎসা শিবির আয়োজন।
৬। দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ যেকোনো দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।
৭। বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি।
৮। মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
৯। যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ প্রদান।
১০। সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
ধারা–১৫ : সামাজিক দায়বদ্ধতা
সংস্থা সর্বদা মানবিক, নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করবে এবং কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হবে না।
সংস্থার প্রতিটি কার্যক্রম হবে জনকল্যাণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির ওপর ভিত্তি করে।
ভিশন, মিশন, মূলনীতি ও উদ্দেশ্য (অবশিষ্ট অংশ)
ধারা–১৬ : সংস্থার বিস্তারিত উদ্দেশ্য
সংস্থা নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করবে—
১১। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
১২। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা ও ওষুধ সরবরাহে সহযোগিতা করা।
১৩। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা।
১৪। রক্তদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
১৫। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১৬। যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
১৭। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
১৮। জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা।
১৯। প্রয়োজনে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে আইনানুগভাবে সমন্বয় করে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২০। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
ধারা–১৭ : বৈষম্যবিরোধী নীতি
১৭.১ সংস্থার সকল কার্যক্রমে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, ভাষা, পেশা, আর্থিক অবস্থা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
১৭.২ সকল সদস্য ও উপকারভোগীর প্রতি সমান মর্যাদা, সম্মান ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করা হবে।
ধারা–১৮ : নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি অঙ্গীকার
১৮.১ সংস্থা নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।
১৮.২ শিশু সুরক্ষা, নারীর নিরাপত্তা, প্রবীণদের সম্মান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ধারা–১৯ : পরিবেশ সংরক্ষণ
১৯.১ পরিবেশ রক্ষা সংস্থার অন্যতম অঙ্গীকার।
১৯.২ বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে সংস্থা নিয়মিত কর্মসূচি পরিচালনা করবে।
ধারা–২০ : আইন মেনে পরিচালনা
২০.১ সংস্থার সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
২০.২ সংস্থা কোনো অবৈধ, উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হবে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সমর্থন করবে না।
২০.৩ সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের নীতি সর্বদা অনুসরণ করা হবে।
সদস্যপদ
ধারা–২১ : সদস্যপদের শ্রেণিবিভাগ
সংস্থার কার্যক্রমকে গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত শ্রেণির সদস্য রাখা হবে—
১। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
২। সাধারণ সদস্য
৩। আজীবন সদস্য
৪। সম্মানিত সদস্য
৫। দাতা সদস্য
৬। প্রবাসী সদস্য
৭। উপদেষ্টা সদস্য
ধারা–২২ : প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
২২.১ যেসব ব্যক্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সভায় উপস্থিত থেকে সংস্থা গঠনে সম্মতি প্রদান করেছেন, তাঁরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
২২.২ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ সংস্থার নীতিগত বিষয়ে মতামত প্রদান এবং সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণের অধিকারভোগ করবেন।
ধারা–২৩ : সাধারণ সদস্য
২৩.১ সংস্থার উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রে বিশ্বাসী যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সাধারণ সদস্য হতে পারবেন।
২৩.২ নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে সাধারণ সদস্যপদ প্রদান করা হবে।
ধারা–২৪ : আজীবন সদস্য
২৪.১ কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারিত এককালীন অনুদান বা সদস্য ফি প্রদান করে একজন ব্যক্তি আজীবন সদস্য হতে পারবেন।
২৪.২ আজীবন সদস্যদের সদস্যপদ বার্ষিক নবায়নের প্রয়োজন হবে না।
ধারা–২৫ : সম্মানিত সদস্য
২৫.১ সমাজসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, আইন, সাংবাদিকতা, প্রশাসন অথবা অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিকে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে সম্মানিত সদস্য করা যেতে পারে।
২৫.২ সম্মানিত সদস্য সাধারণত ভোটাধিকার ভোগ করবেন না, যদি না গঠনতন্ত্রে ভিন্নভাবে উল্লেখ থাকে।
ধারা–২৬ : দাতা সদস্য
২৬.১ সংস্থার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য আর্থিক বা বস্তুগত সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তিকে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
২৬.২ দাতা সদস্যদের সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে, তবে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
ধারা–২৭ : প্রবাসী সদস্য
২৭.১ বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বিশ্বাসী এবং সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তিনি প্রবাসী সদস্য হতে পারবেন।
২৭.২ প্রবাসী সদস্যরা প্রবাসে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার এবং সহযোগিতা করতে পারবেন।
ধারা–২৮ : উপদেষ্টা সদস্য
২৮.১ কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে অভিজ্ঞ, সম্মানিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের উপদেষ্টা সদস্য হিসেবে মনোনীত করা যেতে পারে।
২৮.২ উপদেষ্টা সদস্যগণ সংস্থার উন্নয়নে পরামর্শ প্রদান করবেন, তবে কার্যনির্বাহী কমিটির দৈনন্দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না।
সদস্যপদ (ক্রমশ)
ধারা–২৯ : সদস্য হওয়ার যোগ্যতা
সংস্থার সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে—
২৯.১ বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে (প্রবাসী সদস্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে)।
২৯.২ সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে হবে এবং মানবসেবামূলক কাজে আগ্রহী হতে হবে।
২৯.৩ সংস্থার গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে।
২৯.৪ কোনো রাষ্ট্রবিরোধী, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা যাবে না।
২৯.৫ কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনে আবেদনকারীর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারবে।
ধারা–৩০ : সদস্যপদের জন্য আবেদন
৩০.১ নির্ধারিত সদস্য আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে।
৩০.২ আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন, ছবি ইত্যাদি) সংযুক্ত করতে হবে।
৩০.৩ আবেদন গ্রহণ বা বাতিল করার ক্ষমতা কার্যনির্বাহী কমিটির থাকবে।
৩০.৪ কোনো আবেদন বাতিল হলে আবেদনকারী পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
ধারা–৩১ : সদস্যপদ অনুমোদন
৩১.১ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে সদস্যপদ অনুমোদন করা হবে।
৩১.২ অনুমোদনের পর সদস্যের নাম সংস্থার সদস্য নিবন্ধন খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৩১.৩ প্রত্যেক সদস্যকে একটি স্বতন্ত্র সদস্য নম্বর প্রদান করা হবে।
ধারা–৩২ : সদস্য পরিচয়পত্র
৩২.১ সংস্থা প্রত্যেক অনুমোদিত সদস্যকে একটি পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করতে পারবে।
৩২.২ পরিচয়পত্র সংস্থার সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
৩২.৩ সদস্যপদ বাতিল বা পদত্যাগের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সংস্থার নিকট ফেরত দিতে হবে।
ধারা–৩৩ : সদস্যপদ নবায়ন
৩৩.১ সাধারণ সদস্যদের প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে।
৩৩.২ নবায়ন ফি কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে এবং সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হবে।
৩৩.৩ যথাসময়ে নবায়ন না করলে সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা যেতে পারে।
ধারা–৩৪ : সদস্য নিবন্ধন খাতা
৩৪.১ সংস্থায় একটি স্থায়ী সদস্য নিবন্ধন খাতা সংরক্ষণ করা হবে।
৩৪.২ এতে সদস্যের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন নম্বর, সদস্য নম্বর, রক্তের গ্রুপ, পেশা এবং সদস্যপদ প্রদানের তারিখ উল্লেখ থাকবে।
৩৪.৩ সদস্য নিবন্ধন খাতা দপ্তর সম্পাদক সংরক্ষণ করবেন এবং সাধারণ সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে হালনাগাদ করবেন।
সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা
ধারা–৩৫ : সদস্যদের অধিকার
সংস্থার প্রত্যেক সদস্য নিম্নোক্ত অধিকার ভোগ করবেন—
৩৫.১ সাধারণ সভায় উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করতে পারবেন।
৩৫.২ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য ভোট প্রদান এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
৩৫.৩ সংস্থার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
৩৫.৪ সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন, আর্থিক বিবরণী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানার অধিকার থাকবে।
৩৫.৫ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংস্থার যেকোনো পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে।
৩৫.৬ সংস্থার উন্নয়নের জন্য লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ প্রদান করতে পারবেন।
ধারা–৩৬ : সদস্যদের দায়িত্ব
প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব হবে—
৩৬.১ সংস্থার গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত মেনে চলা।
৩৬.২ সংস্থার সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা।
৩৬.৩ মানবসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।
৩৬.৪ সময়মতো সদস্য ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত চাঁদা পরিশোধ করা।
৩৬.৫ সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে যথাসম্ভব উপস্থিত থাকা।
৩৬.৬ সংস্থার সম্পদ ও নথিপত্রের যথাযথ সংরক্ষণে সহযোগিতা করা।
৩৬.৭ কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা অসদাচরণ থেকে বিরত থাকা।
ধারা–৩৭ : আচরণবিধি
প্রত্যেক সদস্য—
৩৭.১ সকলের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ করবেন।
৩৭.২ ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে বৈষম্য করবেন না।
৩৭.৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো বক্তব্য বা প্রচারণা চালাবেন না।
৩৭.৪ সংস্থার নামে অনুমতি ছাড়া কোনো অর্থ সংগ্রহ, প্রতিশ্রুতি প্রদান বা চুক্তি করতে পারবেন না।
ধারা–৩৮ : সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল
নিম্নোক্ত কারণে কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে—
১। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা।
২। সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ণ করা।
৩। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকা।
৪। ভুয়া তথ্য দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করা।
৫। আদালতে নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া।
৬। সংস্থার নামে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ বা ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করা।
৭। টানা তিনটি সাধারণ সভায় যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকা (কার্যনির্বাহী কমিটির বিবেচনায়)।
তবে সদস্যপদ বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে এবং তার বক্তব্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
ধারা–৩৯ : সদস্যের পদত্যাগ
৩৯.১ কোনো সদস্য ব্যক্তিগত কারণে লিখিতভাবে সাধারণ সম্পাদকের নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করতে পারবেন।
৩৯.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর পদত্যাগ কার্যকর হবে।
৩৯.৩ পদত্যাগকারী সদস্যের সংস্থার কোনো সম্পদ বা পরিচয়পত্র থাকলে তা ফেরত দিতে হবে।
ধারা–৪০ : আপিলের অধিকার
৪০.১ সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো সদস্য অসন্তুষ্ট হলে সিদ্ধান্তের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সভাপতির মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে লিখিত আপিল করতে পারবেন।
৪০.২ কার্যনির্বাহী কমিটি আপিল শুনানি করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৪০.৩ প্রয়োজনে বিষয়টি সাধারণ পরিষদের সভায়ও উপস্থাপন করা যেতে পারে, যার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সাধারণ পরিষদ (General Council)
ধারা–৪১ : সাধারণ পরিষদের সংজ্ঞা
৪১.১ সংস্থার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হবে সাধারণ পরিষদ।
৪১.২ সংস্থার সকল বৈধ সদস্য নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে।
৪১.৩ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত সংস্থার সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক হবে, যদি তা গঠনতন্ত্র ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
ধারা–৪২ : সাধারণ পরিষদের গঠন
সাধারণ পরিষদ নিম্নোক্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হবে—
১। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
২। সাধারণ সদস্য।
৩। আজীবন সদস্য।
৪। প্রবাসী সদস্য।
৫। দাতা সদস্য (যদি ভোটাধিকার প্রদান করা হয়)।
বিঃদ্রঃ সম্মানিত ও উপদেষ্টা সদস্যগণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের ভোটাধিকার সীমিত বা অনুপস্থিত থাকতে পারে।
ধারা–৪৩ : সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সাধারণ পরিষদ—
৪৩.১ গঠনতন্ত্র অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৪৩.২ কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন বা অনুমোদন করবে।
৪৩.৩ সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন করবে।
৪৩.৪ বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন করবে।
৪৩.৫ সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক নীতিমালা নির্ধারণ করবে।
৪৩.৬ সংস্থার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৪৩.৭ প্রয়োজনে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ধারা–৪৪ : সাধারণ সভা (Annual General Meeting - AGM)
৪৪.১ প্রতি অর্থবছরে কমপক্ষে একবার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৪৪.২ সাধারণ সভায় নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করা হবে—
ক) বিগত বছরের কার্যক্রমের প্রতিবেদন।
খ) আয়-ব্যয়ের হিসাব।
গ) নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন।
ঘ) পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা।
ঙ) বাজেট অনুমোদন।
চ) অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
ধারা–৪৫ : সাধারণ সভার উদ্দেশ্য
সাধারণ সভার উদ্দেশ্য হবে—
১। সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করা।
২। সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা।
৩। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
৪। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৫। সংস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
ধারা–৪৬ : সভার নোটিশ
৪৬.১ সাধারণ সভার নোটিশ সভার তারিখের কমপক্ষে ১৫ (পনের) দিন পূর্বে লিখিতভাবে বা ডিজিটাল মাধ্যমে সকল সদস্যকে জানাতে হবে।
৪৬.২ জরুরি প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী কমিটি যুক্তিসঙ্গত সময়ে বিশেষ সভা আহ্বান করতে পারবে।
ধারা–৪৭ : সভার সভাপতিত্ব
৪৭.১ সাধারণ সভায় সংস্থার সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন।
৪৭.২ সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন।
৪৭.৩ সভাপতি ও সহ-সভাপতি উভয়েই অনুপস্থিত থাকলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
ধারা–৪৮ : বিশেষ সাধারণ সভা (Extraordinary General Meeting)
৪৮.১ সংস্থার জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা যাবে।
৪৮.২ সভাপতি, কার্যনির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অথবা সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সদস্যের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা যাবে।
৪৮.৩ বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ সভার তারিখের কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রদান করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটি যুক্তিসঙ্গত সময়ে সভা আহ্বান করতে পারবে।
ধারা–৪৯ : কোরাম
৪৯.১ সাধারণ সভা পরিচালনার জন্য মোট ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সদস্যের উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৪৯.২ নির্ধারিত সময়ে কোরাম পূর্ণ না হলে সভাপতি সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেন।
৪৯.৩ এরপরও কোরাম পূর্ণ না হলে সভা স্থগিত করে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
৪৯.৪ পুনঃনির্ধারিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে সভা পরিচালনা করা যাবে, তবে গঠনতন্ত্র সংশোধন বা সংস্থা বিলুপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরামের বিধান প্রযোজ্য থাকবে।
ধারা–৫০ : সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি
৫০.১ সভার সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হবে।
৫০.২ ভোট সমান হলে সভাপতির কাস্টিং ভোট (Casting Vote) প্রযোজ্য হবে।
৫০.৩ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
ধারা–৫১ : ভোট প্রদান
৫১.১ ভোট সাধারণত হাত তুলে প্রদান করা হবে।
৫১.২ প্রয়োজনবোধে সভাপতি বা সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্তে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা যাবে।
৫১.৩ ভোট প্রদানের অধিকার কেবল ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যদের থাকবে।
ধারা–৫২ : সভার কার্যবিবরণী (Minutes)
৫২.১ প্রত্যেক সাধারণ ও বিশেষ সাধারণ সভার কার্যবিবরণী লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৫২.২ কার্যবিবরণীতে সভার তারিখ, সময়, স্থান, উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যা, আলোচ্যসূচি, গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির স্বাক্ষর থাকতে হবে।
৫২.৩ কার্যবিবরণী সাধারণ সম্পাদক প্রস্তুত করবেন এবং সভাপতি অনুমোদন করবেন।
ধারা–৫৩ : সভা স্থগিতকরণ
৫৩.১ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অনিবার্য কারণে সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির পরামর্শক্রমে সভা স্থগিত করতে পারবেন।
৫৩.২ স্থগিতকৃত সভার নতুন তারিখ, সময় ও স্থান যথাসময়ে সকল সদস্যকে জানিয়ে দিতে হবে।
ধারা–৫৪ : সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা
৫৪.১ সাধারণ পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত সংস্থার সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
৫৪.২ কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা এই গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা কার্যকর হবে না এবং প্রয়োজনে সাধারণ পরিষদে পুনর্বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
কার্যনির্বাহী কমিটি (Executive Committee)
ধারা–৫৫ : কার্যনির্বাহী কমিটি
৫৫.১ সংস্থার দৈনন্দিন প্রশাসনিক, সাংগঠনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকবে।
৫৫.২ কার্যনির্বাহী কমিটি সাধারণ পরিষদের নিকট জবাবদিহি থাকবে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
৫৫.৩ কার্যনির্বাহী কমিটি সংস্থার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে।
ধারা–৫৬ : কার্যনির্বাহী কমিটির গঠন
কার্যনির্বাহী কমিটি নিম্নলিখিত পদসমূহ নিয়ে গঠিত হবে—
১। সভাপতি – ১ জন
২। সহ-সভাপতি – ১ জন
৩। সাধারণ সম্পাদক – ১ জন
৪। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক – ১ জন
৫। সাংগঠনিক সম্পাদক – ১ জন
৬। অর্থ সম্পাদক – ১ জন
৭। দপ্তর সম্পাদক – ১ জন
৮। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক – ১ জন
৯। সমাজকল্যাণ সম্পাদক – ১ জন
১০। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক – ১ জন
১১। যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক – ১ জন
১২। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক – ১ জন (প্রয়োজন হলে)
১৩। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক – ১ জন (প্রয়োজন হলে)
১৪। কার্যনির্বাহী সদস্য – ন্যূনতম ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৭ জন।
মোট সদস্য সংখ্যা: প্রয়োজন অনুযায়ী ১৫ থেকে ২১ জনের মধ্যে নির্ধারণ করা যাবে।
ধারা–৫৭ : কমিটির মেয়াদ
৫৭.১ কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ৩ (তিন) বছর হবে।
৫৭.২ মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন বা অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫৭.৩ নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী কমিটি দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ধারা–৫৮ : যোগ্যতা
কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য—
ক) সংস্থার বৈধ সদস্য হতে হবে।
খ) গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে।
গ) সৎ চরিত্র ও মানবসেবায় আগ্রহী হতে হবে।
ঘ) সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা যাবে না।
ধারা–৫৯ : কার্যনির্বাহী কমিটির ক্ষমতা
কার্যনির্বাহী কমিটি—
১। সংস্থার বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
২। সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
৩। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়ন করবে।
৪। সদস্য ভর্তি, সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৫। প্রয়োজনে উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে।
৬। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে।
৭। সংস্থার সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ধারা–৬০ : কার্যনির্বাহী কমিটির সভা
৬০.১ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হবে।
৬০.২ জরুরি প্রয়োজনে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বিশেষ সভা আহ্বান করতে পারবেন।
৬০.৩ সভার নোটিশ কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রদান করতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে কম সময়েও সভা আহ্বান করা যাবে।
কার্যনির্বাহী কমিটি (ক্রমশ)
ধারা–৬১ : কার্যনির্বাহী কমিটির কোরাম
৬১.১ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা পরিচালনার জন্য মোট সদস্যের অন্তত অর্ধেকের (১/২) উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৬১.২ নির্ধারিত সময়ে কোরাম পূর্ণ না হলে সভাপতি সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
৬১.৩ এরপরও কোরাম পূর্ণ না হলে সভা স্থগিত করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ধারা–৬২ : কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৬২.১ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৬২.২ ভোট সমান হলে সভাপতির কাস্টিং ভোট প্রযোজ্য হবে।
৬২.৩ গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত কার্যবিবরণী খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করবেন।
ধারা–৬৩ : শূন্য পদ পূরণ
৬৩.১ কোনো পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে একজন যোগ্য সদস্যকে ঐ পদে দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে।
৬৩.২ পরবর্তী সাধারণ সভায় উক্ত নিয়োগ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
৬৩.৩ সভাপতি পদ শূন্য হলে সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, যতদিন না নতুন সভাপতি নির্বাচিত বা মনোনীত হন।
ধারা–৬৪ : পদত্যাগ
৬৪.১ কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে সভাপতির নিকট (সভাপতির ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদকের নিকট) লিখিত পদত্যাগপত্র দাখিল করবেন।
৬৪.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর পদত্যাগ কার্যকর হবে।
৬৪.৩ পদত্যাগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সদস্যের নিকট থাকা সংস্থার সকল নথি, সিল, পরিচয়পত্র ও সম্পদ যথাযথভাবে হস্তান্তর করতে হবে।
ধারা–৬৫ : পদ থেকে অপসারণ
নিম্নলিখিত কারণে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যকে অপসারণ করা যেতে পারে—
১। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করলে।
২। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকলে।
৩। সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে।
৪। টানা তিনটি কার্যনির্বাহী সভায় যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে।
৫। আদালতে নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে।
তবে অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং কার্যনির্বাহী কমিটির কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সদস্যের সমর্থনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে হবে।
ধারা–৬৬ : উপদেষ্টা পরিষদ
৬৬.১ সংস্থার কার্যক্রমে পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যেতে পারে।
৬৬.২ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে।
৬৬.৩ উপদেষ্টাগণ সভায় উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করতে পারবেন, তবে ভোটাধিকার থাকবে না।
৬৬.৪ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা, আইন, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, প্রশাসন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা যাবে।
ধারা–৬৭ : উপ-কমিটি গঠন
৬৭.১ সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে।
৬৭.২ প্রতিটি উপ-কমিটি কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট জবাবদিহি থাকবে।
৬৭.৩ উপ-কমিটির কার্যপরিধি, দায়িত্ব ও মেয়াদ কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে।
পদাধিকারীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
ধারা–৬৮ : সভাপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সংস্থার সভাপতি হবেন সংস্থার প্রধান ব্যক্তি এবং তিনি সংস্থার সার্বিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
সভাপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা—
৬৮.১ সংস্থার সকল সভায় সভাপতিত্ব করা।
৬৮.২ গঠনতন্ত্র ও সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৬৮.৩ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কার্যক্রম তদারকি করা।
৬৮.৪ সংস্থার নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
৬৮.৫ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬৮.৬ সংস্থার পক্ষে সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
৬৮.৭ সংস্থার জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং পরবর্তী সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা।
৬৮.৮ সংস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদারকি করা।
৬৮.৯ সভাপতি হিসেবে সংস্থার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পালন করা।
ধারা–৬৯ : সহ-সভাপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সহ-সভাপতি সভাপতিকে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করবেন।
সহ-সভাপতির দায়িত্ব—
৬৯.১ সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির সকল দায়িত্ব পালন করা।
৬৯.২ সংস্থার কার্যক্রমে সভাপতিকে সহযোগিতা করা।
৬৯.৩ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি তদারকিতে সহায়তা করা।
৬৯.৪ কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।
৬৯.৫ সভাপতি কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।
ধারা–৭০ : সাধারণ সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সাধারণ সম্পাদক হবেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয়কারী।
সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব—
৭০.১ সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৭০.২ সভার নোটিশ প্রদান ও সভা আহ্বানের ব্যবস্থা করা।
৭০.৩ সভার কার্যবিবরণী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা।
৭০.৪ কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।
৭০.৫ সংস্থার সকল দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা।
৭০.৬ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা।
৭০.৭ সংস্থার চিঠিপত্র, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৭০.৮ সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।
ধারা–৭১ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭১.১ সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করা।
৭১.২ সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।
৭১.৩ সভা ও কর্মসূচির সমন্বয়ে সহায়তা করা।
৭১.৪ সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করা।
পদাধিকারীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব (ক্রমশ)
ধারা–৭২ : সাংগঠনিক সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সাংগঠনিক সম্পাদক সংস্থার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব—
৭২.১ সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা।
৭২.২ নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।
৭২.৩ বিভিন্ন শাখা, প্রতিনিধি ও কর্মীদের কার্যক্রম সমন্বয় করা।
৭২.৪ সাংগঠনিক সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি আয়োজনে সহযোগিতা করা।
৭২.৫ সংস্থার সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৭২.৬ সাধারণ সম্পাদককে সাংগঠনিক বিষয়ে সহযোগিতা করা।
ধারা–৭৩ : অর্থ সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
অর্থ সম্পাদক সংস্থার সকল আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা ও হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।
অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব—
৭৩.১ সংস্থার সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা।
৭৩.২ সদস্য ফি, অনুদান ও অন্যান্য অর্থ গ্রহণ করে যথাযথ রসিদ প্রদান করা।
৭৩.৩ ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করা।
৭৩.৪ বার্ষিক বাজেট প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করা।
৭৩.৫ মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা।
৭৩.৬ অডিট বা হিসাব নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা।
৭৩.৭ সংস্থার অর্থ কোনো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না তা নিশ্চিত করা।
ধারা–৭৪ : দপ্তর সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
দপ্তর সম্পাদক সংস্থার সকল দাপ্তরিক নথি ও রেকর্ড সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।
দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব—
৭৪.১ সংস্থার অফিসিয়াল কাগজপত্র সংরক্ষণ করা।
৭৪.২ সদস্য নিবন্ধন খাতা, সভার কার্যবিবরণী ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ করা।
৭৪.৩ চিঠিপত্র গ্রহণ ও প্রেরণের ব্যবস্থা করা।
৭৪.৪ সংস্থার অফিস ব্যবস্থাপনা ও নথিপত্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
৭৪.৫ প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদককে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করা।
ধারা–৭৫ : প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সংস্থার কার্যক্রম প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭৫.১ সংস্থার কার্যক্রম গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা।
৭৫.২ সংস্থার পরিচিতি, প্রতিবেদন, প্রকাশনা ও প্রচার সামগ্রী প্রস্তুতে সহযোগিতা করা।
৭৫.৩ সংস্থার সুনাম ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্রচারণা পরিচালনা করা।
৭৫.৪ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তথ্য সংরক্ষণ করা।
৭৫.৫ অনুমোদন ছাড়া কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করা।
ধারা–৭৬ : সমাজকল্যাণ সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
সমাজকল্যাণ সম্পাদক সংস্থার মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭৬.১ অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা।
৭৬.২ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করা।
৭৬.৩ ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সমন্বয় করা।
৭৬.৪ সমাজের প্রয়োজনীয় বিষয় চিহ্নিত করে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে প্রস্তাব প্রদান করা।
৭৬.৫ মানবসেবামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করা।
পদাধিকারীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব (ক্রমশ)
ধারা–৭৭ : শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সংস্থার শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭৭.১ শিক্ষামূলক কার্যক্রম, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা।
৭৭.২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য প্রস্তাব প্রদান করা।
৭৭.৩ শিক্ষা বিস্তার ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।
৭৭.৪ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করা।
৭৭.৫ সমাজের ইতিবাচক সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করা।
ধারা–৭৮ : যুব বিষয়ক সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
যুব বিষয়ক সম্পাদক সংস্থার যুব সদস্যদের সংগঠিত ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭৮.১ যুবকদের মানবসেবামূলক কাজে উৎসাহিত করা।
৭৮.২ যুব উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা।
৭৮.৩ মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কার্যক্রম থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
৭৮.৪ ক্রীড়া, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৭৮.৫ যুব সদস্যদের মতামত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে উপস্থাপন করা।
ধারা–৭৯ : প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক সংস্থার প্রবাসী সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর দায়িত্ব—
৭৯.১ প্রবাসী সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
৭৯.২ প্রবাসীদের সহযোগিতায় মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখা।
৭৯.৩ প্রবাসী সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা।
৭৯.৪ প্রবাসী শাখা বা প্রতিনিধি কার্যক্রম সমন্বয় করা।
৭৯.৫ প্রবাসীদের সহযোগিতা স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে নজর রাখা।
ধারা–৮০ : কার্যনির্বাহী সদস্যদের দায়িত্ব
কার্যনির্বাহী সদস্যগণ—
৮০.১ সংস্থার সকল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
৮০.২ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করবেন।
৮০.৩ সংস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।
৮০.৪ বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
৮০.৫ সংস্থার শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সুনাম রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।
ধারা–৮১ : প্রতিনিধি সদস্যদের দায়িত্ব
সংস্থার বিভিন্ন এলাকা বা অঞ্চলের প্রতিনিধিগণ—
৮১.১ নিজ নিজ এলাকার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
৮১.২ এলাকার সামাজিক সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা সংস্থার কাছে তুলে ধরবেন।
৮১.৩ সংস্থার মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।
৮১.৪ এলাকার কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান করবেন।
ধারা–৮২ : সকল কর্মকর্তার সাধারণ দায়িত্ব
সংস্থার সকল কর্মকর্তা—
৮২.১ নিজ নিজ পদ অনুযায়ী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
৮২.২ সংস্থার সম্পদ, নথিপত্র ও গোপনীয় তথ্যের যথাযথ সংরক্ষণ করবেন।
৮২.৩ ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
৮২.৪ সংস্থার ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।
সভা পরিচালনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
ধারা–৮৩ : সভার ধরন
সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিম্নোক্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে—
১। সাধারণ পরিষদের সভা।
২। বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)।
৩। বিশেষ সাধারণ সভা।
৪। কার্যনির্বাহী কমিটির সভা।
৫। জরুরি সভা।
৬। প্রয়োজনীয় অন্যান্য সভা।
ধারা–৮৪ : কার্যনির্বাহী কমিটির সভা
৮৪.১ সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৮৪.২ সাধারণত প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করা হবে।
৮৪.৩ সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান করবেন।
৮৪.৪ সভায় সংস্থার চলমান কার্যক্রম, আর্থিক বিষয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ধারা–৮৫ : সভার নোটিশ
৮৫.১ নিয়মিত সভার নোটিশ সভার তারিখের কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রদান করতে হবে।
৮৫.২ নোটিশ লিখিত, মোবাইল বার্তা, ই-মেইল বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদান করা যেতে পারে।
৮৫.৩ জরুরি পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের নোটিশে সভা আহ্বান করা যাবে।
ধারা–৮৬ : সভার আলোচ্যসূচি
৮৬.১ সভার পূর্বে সাধারণ সম্পাদক আলোচ্য বিষয়সমূহ প্রস্তুত করবেন।
৮৬.২ গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিষয় সভাপতি বা উপস্থিত সদস্যদের অনুমতিক্রমে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
৮৬.৩ সভার আলোচ্যসূচি যথাসম্ভব পূর্বেই সদস্যদের জানানো হবে।
ধারা–৮৭ : সভার উপস্থিতি
৮৭.১ প্রত্যেক সভায় উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরের জন্য উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে।
৮৭.২ কোনো সদস্য যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থাকলে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
৮৭.৩ সভায় সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব।
ধারা–৮৮ : সভার কার্যবিবরণী
৮৮.১ প্রত্যেক সভার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে কার্যবিবরণী খাতায় সংরক্ষণ করতে হবে।
৮৮.২ কার্যবিবরণীতে সভার—
তারিখ
সময়
স্থান
সভাপতির নাম
উপস্থিত সদস্যদের তালিকা
আলোচ্য বিষয়
গৃহীত সিদ্ধান্ত
উল্লেখ থাকতে হবে।
৮৮.৩ সাধারণ সম্পাদক কার্যবিবরণী প্রস্তুত করবেন এবং সভাপতি অনুমোদন করবেন।
ধারা–৮৯ : সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
৮৯.১ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কমিটির ওপর থাকবে।
৮৯.২ সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
৮৯.৩ পরবর্তী সভায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
ধারা–৯০ : জরুরি সভা
৯০.১ বিশেষ পরিস্থিতিতে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক জরুরি সভা আহ্বান করতে পারবেন।
৯০.২ জরুরি সভায় শুধুমাত্র জরুরি ও প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৯০.৩ জরুরি সভার সিদ্ধান্ত পরবর্তী কার্যনির্বাহী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সভা পরিচালনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন (ক্রমশ)
ধারা–৯১ : সভায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা
৯১.১ সভায় সকল সদস্যকে শালীনতা, সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে।
৯১.২ সভাপতির অনুমতি ব্যতীত কোনো সদস্য আলোচনার মাঝখানে বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না।
৯১.৩ ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা, বিশৃঙ্খল আচরণ বা সভার পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন কোনো কার্যকলাপ গ্রহণযোগ্য হবে না।
৯১.৪ প্রয়োজনে সভাপতি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
ধারা–৯২ : অনলাইন সভা
৯২.১ বিশেষ পরিস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটি অনলাইন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা আয়োজন করতে পারবে।
৯২.২ অনলাইন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সরাসরি সভার সিদ্ধান্তের সমান কার্যকর বলে গণ্য হবে।
৯২.৩ সভার কার্যবিবরণীতে ব্যবহৃত অনলাইন মাধ্যম, তারিখ, সময় এবং উপস্থিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করতে হবে।
ধারা–৯৩ : উপ-কমিটির কার্যক্রম
৯৩.১ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে গঠিত প্রতিটি উপ-কমিটি নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে।
৯৩.২ উপ-কমিটি নিয়মিতভাবে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি কার্যনির্বাহী কমিটিকে অবহিত করবে।
৯৩.৩ কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনে উপ-কমিটির কার্যক্রম মূল্যায়ন, পুনর্গঠন বা বিলুপ্ত করতে পারবে।
ধারা–৯৪ : বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা
৯৪.১ প্রতি অর্থবছরের শুরুতে কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
৯৪.২ কর্মপরিকল্পনায় মানবসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৯৪.৩ সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের পর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ধারা–৯৫ : বার্ষিক প্রতিবেদন
৯৫.১ সাধারণ সম্পাদক প্রতি অর্থবছর শেষে সংস্থার কার্যক্রমের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।
৯৫.২ প্রতিবেদনটিতে সংস্থার সাফল্য, চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আর্থিক সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৯৫.৩ বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
ধারা–৯৬ : সাংগঠনিক মূল্যায়ন
৯৬.১ কার্যনির্বাহী কমিটি বছরে অন্তত একবার সংস্থার কার্যক্রম মূল্যায়ন করবে।
৯৬.২ মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
৯৬.৩ সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে সংস্থার কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধারা–৯৭ : নথি সংরক্ষণ
৯৭.১ সভার কার্যবিবরণী, সদস্য নিবন্ধন, আর্থিক নথি, প্রকল্প সংক্রান্ত দলিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৯৭.২ প্রয়োজনে এসব নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
৯৭.৩ অনুমোদিত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ সংস্থার গোপন নথি ব্যবহার বা প্রকাশ করতে পারবেন না।
নির্বাচন বিধিমালা
ধারা–৯৮ : নির্বাচন
৯৮.১ সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অথবা সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত হবে।
৯৮.২ নির্বাচন প্রতি ৩ (তিন) বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হবে।
৯৮.৩ সাধারণ পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে।
৯৮.৪ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।
ধারা–৯৯ : নির্বাচন কমিশন
৯৯.১ নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।
৯৯.২ নির্বাচন কমিশনে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমপক্ষে দুইজন সদস্য থাকবেন।
৯৯.৩ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
৯৯.৪ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে, তবে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী আপিল করা যাবে।
ধারা–১০০ : ভোটার তালিকা
১০০.১ কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে।
১০০.২ কেবল বৈধ ও ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যগণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
১০০.৩ নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে আপত্তি গ্রহণ করে সংশোধন করবে।
ধারা–১০১ : প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা
কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে হলে—
১০১.১ সংস্থার বৈধ সদস্য হতে হবে।
১০১.২ সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল অবস্থায় থাকা যাবে না।
১০১.৩ সংস্থার গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
১০১.৪ দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ বা সংস্থাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা যাবে না।
ধারা–১০২ : মনোনয়নপত্র
১০২.১ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ফরমে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
১০২.২ মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
১০২.৩ যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ধারা–১০৩ : প্রার্থিতা প্রত্যাহার
১০৩.১ কোনো প্রার্থী ইচ্ছা করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
১০৩.২ প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ধারা–১০৪ : প্রচারণা
১০৪.১ নির্বাচনী প্রচারণা শালীন, শান্তিপূর্ণ ও গঠনতন্ত্রসম্মত হতে হবে।
১০৪.২ ব্যক্তিগত আক্রমণ, মিথ্যা প্রচারণা, অর্থের অপব্যবহার বা সদস্যদের প্রভাবিত করার অনৈতিক চেষ্টা করা যাবে না।
১০৪.৩ নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে প্রচারণা সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নির্বাচন বিধিমালা (ক্রমশ)
ধারা–১০৫ : ভোটগ্রহণ পদ্ধতি
১০৫.১ নির্বাচন গোপন ব্যালট, উন্মুক্ত ভোট অথবা সর্বসম্মতিক্রমে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে তা নির্বাচন কমিশন বা সাধারণ পরিষদ নির্ধারণ করবে।
১০৫.২ প্রত্যেক ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য একটি করে ভোট প্রদান করবেন।
১০৫.৩ প্রক্সি (অন্যের মাধ্যমে) ভোট প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না গঠনতন্ত্রে বিশেষভাবে অনুমোদিত থাকে।
১০৫.৪ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
ধারা–১০৬ : ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা
১০৬.১ ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন উপস্থিত প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করবে।
১০৬.২ সর্বাধিক বৈধ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী সংশ্লিষ্ট পদে নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন।
১০৬.৩ ভোট সমান হলে নির্বাচন কমিশন পুনঃভোটের ব্যবস্থা করতে পারবে অথবা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
১০৬.৪ নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবে এবং কার্যবিবরণীতে তা লিপিবদ্ধ করবে।
ধারা–১০৭ : নির্বাচনী আপত্তি ও পুনর্গণনা
১০৭.১ কোনো প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে ফলাফল ঘোষণার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।
১০৭.২ নির্বাচন কমিশন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনে ভোট পুনর্গণনা বা অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
১০৭.৩ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ধারা–১০৮ : নির্বাচন বাতিল
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করতে পারবে—
১। ব্যাপক অনিয়ম বা কারচুপি প্রমাণিত হলে।
২। সহিংসতা বা গুরুতর বিশৃঙ্খলার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে।
৩। গঠনতন্ত্র বা নির্বাচন বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটলে।
বাতিল হওয়া ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ধারা–১০৯ : উপনির্বাচন
১০৯.১ কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো নির্বাচিত পদ মেয়াদকালে শূন্য হলে, প্রয়োজনবোধে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
১০৯.২ নবনির্বাচিত ব্যক্তি কেবল অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ধারা–১১০ : দায়িত্ব হস্তান্তর
১১০.১ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে বিদায়ী কমিটি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সকল দায়িত্ব, নথিপত্র, হিসাব, ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র, সিলমোহর ও অন্যান্য সম্পদ যথাযথভাবে হস্তান্তর করবে।
১১০.২ হস্তান্তরের সময় একটি লিখিত হস্তান্তর প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করবেন।
অর্থ, তহবিল ও হিসাব ব্যবস্থাপনা
ধারা–১১১ : সংস্থার তহবিল
১১১.১ সংস্থার নামে একটি স্বতন্ত্র তহবিল (Fund) থাকবে।
১১১.২ সংস্থার সকল আয় এই তহবিলে জমা হবে এবং সকল ব্যয় এই তহবিল থেকে পরিচালিত হবে।
১১১.৩ সংস্থার তহবিল কেবল গঠনতন্ত্রে বর্ণিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ধারা–১১২ : তহবিলের উৎস
সংস্থার তহবিল নিম্নলিখিত উৎস থেকে গঠিত হবে—
১। সদস্যদের ভর্তি ফি ও বার্ষিক সদস্য নবায়ন ফি।
২। দান, অনুদান ও স্বেচ্ছা অনুদান।
৩। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রবাসী সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা।
৪। সরকারি বা বেসরকারি অনুদান (আইনানুগ অনুমোদন সাপেক্ষে)।
৫। সংস্থার বৈধ প্রকাশনা, প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য বৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়।
৬। আইনসম্মত অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ।
ধারা–১১৩ : সদস্য ফি
১১৩.১ সদস্য ভর্তি ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য অনুমোদিত ফি কার্যনির্বাহী কমিটির প্রস্তাব এবং সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
১১৩.২ বিশেষ পরিস্থিতিতে অসচ্ছল সদস্যদের ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী কমিটি ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করতে পারবে।
ধারা–১১৪ : অনুদান গ্রহণ
১১৪.১ সংস্থা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী সদস্য ও দাতাদের কাছ থেকে বৈধ অনুদান গ্রহণ করতে পারবে।
১১৪.২ সকল অনুদান যথাযথ রসিদ প্রদান করে গ্রহণ করতে হবে।
১১৪.৩ কোনো শর্তযুক্ত অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন আবশ্যক হবে।
১১৪.৪ বিদেশি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।
ধারা–১১৫ : ব্যাংক হিসাব
১১৫.১ সংস্থার নামে একটি বা একাধিক ব্যাংকে হিসাব খোলা যাবে।
১১৫.২ ব্যাংক হিসাব কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
১১৫.৩ সাধারণভাবে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অর্থ সম্পাদকের মধ্যে যেকোনো দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে।
১১৫.৪ প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যাংক পরিচালনার নিয়ম সংশোধন করতে পারবে।
।
ধারা–১১৬ : নগদ অর্থ সংরক্ষণ
১১৬.১ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ অর্থ অফিসে সংরক্ষণ করা যাবে না।
১১৬.২ নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ যত দ্রুত সম্ভব সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হবে।
১১৬.৩ নগদ অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অর্থ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর বর্তাবে।
অর্থ, তহবিল ও হিসাব ব্যবস্থাপনা (ক্রমশ)
ধারা–১১৭ : ব্যয় অনুমোদনের নিয়ম
১১৭.১ সংস্থার সকল ব্যয় কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
১১৭.২ জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে ব্যয় অনুমোদন করতে পারবেন। তবে পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
১১৭.৩ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ পরিষদ বা কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ব্যতীত করা যাবে না।
ধারা–১১৮ : হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি
১১৮.১ সংস্থার সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে হিসাব বই বা অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করতে হবে।
১১৮.২ প্রতিটি লেনদেনের জন্য রসিদ, ভাউচার বা প্রাসঙ্গিক দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
১১৮.৩ অর্থ সম্পাদক হিসাব সংরক্ষণ করবেন এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়মিত তা তদারকি করবেন।
ধারা–১১৯ : ভাউচার ও রসিদ
১১৯.১ প্রতিটি অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রমিক নম্বরযুক্ত রসিদ প্রদান করতে হবে।
১১৯.২ প্রতিটি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে।
১১৯.৩ সকল ভাউচার ও রসিদ কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বছর সংরক্ষণ করা হবে অথবা প্রচলিত আইন অনুযায়ী অধিক সময় সংরক্ষণ করতে হবে।
ধারা–১২০ : বার্ষিক বাজেট
১২০.১ প্রতি অর্থবছরের শুরুতে অর্থ সম্পাদক একটি সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের বাজেট প্রস্তুত করবেন।
১২০.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর বাজেট সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
১২০.৩ সাধারণ পরিষদের অনুমোদনক্রমে বাজেট কার্যকর হবে।
ধারা–১২১ : হিসাব নিরীক্ষা (Audit)
১২১.১ প্রতি অর্থবছর শেষে সংস্থার হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) করা হবে।
১২১.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে একজন যোগ্য নিরীক্ষক (Auditor) অথবা নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করা যাবে।
১২১.৩ নিরীক্ষা প্রতিবেদন বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
ধারা–১২২ : আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
১২২.১ সংস্থার সকল আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
১২২.২ কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য সংস্থার অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না।
১২২.৩ আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২২.৪ সাধারণ পরিষদের যেকোনো সদস্য যথাযথ কারণ দেখিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদন পরিদর্শন করতে পারবেন।
ধারা–১২৩ : সম্পদ ব্যবস্থাপনা
১২৩.১ সংস্থার স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পদের একটি হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে।
১২৩.২ সংস্থার সম্পদ শুধুমাত্র সংস্থার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
১২৩.৩ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ব্যতীত সংস্থার কোনো সম্পদ বিক্রয়, হস্তান্তর বা বন্ধক রাখা যাবে না।
শৃঙ্খলা, বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনগত ব্যবস্থা
ধারা–১২৪ : শৃঙ্খলা বিধান
১২৪.১ সংস্থার প্রত্যেক সদস্য ও কর্মকর্তা গঠনতন্ত্র, নীতিমালা এবং সাধারণ পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধ সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
১২৪.২ সংস্থার মর্যাদা, সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সকল সদস্যের নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব।
১২৪.৩ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধারা–১২৫ : শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ
নিম্নলিখিত কার্যকলাপ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে—
১। গঠনতন্ত্র বা সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘন করা।
২। সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া।
৩। সংস্থার অর্থ, সম্পদ বা নথিপত্রের অপব্যবহার বা আত্মসাৎ করা।
৪। ভুয়া তথ্য প্রদান বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া।
৫। দুর্নীতি, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক অনিয়মে জড়িত হওয়া।
৬। সভায় বারবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃত বাধা প্রদান করা।
৭। সংস্থার অনুমতি ছাড়া সংস্থার নামে অর্থ সংগ্রহ বা কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদান করা।
ধারা–১২৬ : তদন্ত কমিটি গঠন
১২৬.১ কোনো অভিযোগ প্রাপ্ত হলে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারবে।
১২৬.২ তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
১২৬.৩ তদন্তকালে অভিযুক্ত সদস্যকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।
ধারা–১২৭ : শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
অভিযোগ প্রমাণিত হলে কার্যনির্বাহী কমিটি অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে—
১। মৌখিক সতর্কীকরণ।
২। লিখিত সতর্কীকরণ।
৩। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সদস্যপদ বা পদ স্থগিত।
৪। পদ থেকে অপসারণ।
৫। সদস্যপদ বাতিল।
৬। প্রয়োজনবোধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
ধারা–১২৮ : বিরোধ নিষ্পত্তি
১২৮.১ সদস্যদের মধ্যে বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
১২৮.২ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে কার্যনির্বাহী কমিটি বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
১২৮.৩ প্রয়োজনে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ধারা–১২৯ : আপিলের অধিকার
১২৯.১ শাস্তিপ্রাপ্ত কোনো সদস্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সাধারণ পরিষদের নিকট লিখিত আপিল করতে পারবেন।
১২৯.২ সাধারণ পরিষদ আপিল শুনানি করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ধারা–১৩০ : আইনগত ব্যবস্থা
১৩০.১ সংস্থার সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
১৩০.২ সংস্থার স্বার্থবিরোধী গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
১৩০.৩ সংস্থার কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্য সংস্থাকে দায়ী করতে পারবেন না।
শৃঙ্খলা, বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনগত ব্যবস্থা (ক্রমশ)
ধারা–১৩১ : নৈতিকতা ও সুশাসন
১৩১.১ সংস্থার সকল কার্যক্রম সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
১৩১.২ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংস্থার নাম, সম্পদ বা পদমর্যাদা ব্যবহার করতে পারবেন না।
১৩১.৩ সকল সদস্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখবেন।
ধারা–১৩২ : স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)
১৩২.১ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন না, যেখানে তাঁর বা তাঁর নিকট আত্মীয়ের ব্যক্তিগত আর্থিক বা অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত থাকে।
১৩২.২ এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে বিষয়টি সভায় প্রকাশ করতে হবে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৩২.৩ কার্যনির্বাহী কমিটি স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ধারা–১৩৩ : তথ্যের গোপনীয়তা
১৩৩.১ সংস্থার গোপনীয় নথি, সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক তথ্য ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করা যাবে না।
১৩৩.২ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আইনগত প্রয়োজন ব্যতীত কোনো গোপন তথ্য তৃতীয় পক্ষের নিকট প্রদান করা যাবে না।
১৩৩.৩ তথ্যের অপব্যবহার শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধারা–১৩৪ : গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে বক্তব্য
১৩৪.১ সংস্থার পক্ষে শুধুমাত্র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন।
১৩৪.২ কোনো সদস্য ব্যক্তিগত মতামতকে সংস্থার সরকারি বক্তব্য হিসেবে প্রচার করতে পারবেন না।
১৩৪.৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো মন্তব্য, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
ধারা–১৩৫ : গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব
১৩৫.১ গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের প্রস্তাব কার্যনির্বাহী কমিটি অথবা সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সদস্য লিখিতভাবে উত্থাপন করতে পারবেন।
১৩৫.২ প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১৩৫.৩ সংশোধনী প্রস্তাবের অনুলিপি সভার কমপক্ষে ১৫ (পনের) দিন পূর্বে সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ধারা–১৩৬ : গঠনতন্ত্র সংশোধনের অনুমোদন
১৩৬.১ সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব গৃহীত হবে।
১৩৬.২ সংশোধিত গঠনতন্ত্র বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
১৩৬.৩ প্রয়োজন হলে সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হবে।
সংস্থা বিলুপ্তি, সম্পদ হস্তান্তর ও বিবিধ বিধান
ধারা–১৩৭ : সংস্থা বিলুপ্তির বিধান
১৩৭.১ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সংস্থা বিলুপ্ত করা যাবে না।
১৩৭.২ সংস্থা বিলুপ্তির প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের বিশেষ সভায় উত্থাপন করতে হবে।
১৩৭.৩ সংস্থা বিলুপ্তির জন্য উপস্থিত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যদের কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ (৩/৪) সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
১৩৭.৪ নিবন্ধিত সংস্থা হলে, বিলুপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।
ধারা–১৩৮ : সম্পদ ও তহবিলের নিষ্পত্তি
১৩৮.১ সংস্থা বিলুপ্ত হলে সকল দেনা-পাওনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ, সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না।
১৩৮.২ অবশিষ্ট সম্পদ একই ধরনের উদ্দেশ্যসম্পন্ন এবং আইনানুগভাবে নিবন্ধিত কোনো অলাভজনক মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করা হবে অথবা নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
১৩৮.৩ সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়ে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে।
ধারা–১৩৯ : সংস্থার সিলমোহর ও লোগো
১৩৯.১ সংস্থার একটি অনুমোদিত নাম, লোগো ও সিলমোহর থাকবে।
১৩৯.২ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমতি ব্যতীত সংস্থার নাম, লোগো বা সিলমোহর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে না।
১৩৯.৩ সংস্থার লোগো, ব্যানার, প্যাড, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রকাশনায় অনুমোদিত নকশা ব্যবহার করতে হবে।
ধারা–১৪০ : নিবন্ধন ও আইনগত বাধ্যবাধকতা
১৪০.১ সংস্থা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবে।
১৪০.২ নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় শর্ত ও নির্দেশনা সংস্থা যথাযথভাবে পালন করবে।
১৪০.৩ নিবন্ধনের পর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রতিবেদন, হিসাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হবে।
ধারা–১৪১ : গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা
১৪১.১ এই গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা সম্পর্কে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রাথমিক ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
১৪১.২ প্রয়োজন হলে বিষয়টি সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
১৪১.৩ গঠনতন্ত্রের কোনো বিধান বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে আইনগত বিধান প্রাধান্য পাবে।
ধারা–১৪২ : গঠনতন্ত্রের কার্যকারিতা
১৪২.১ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের তারিখ থেকে এই গঠনতন্ত্র কার্যকর হবে।
১৪২.২ সংস্থার সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও কমিটি এই গঠনতন্ত্র মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
১৪২.৩ এই গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে পূর্বের সকল অনানুষ্ঠানিক নিয়ম, সিদ্ধান্ত বা প্রথা বাতিল বলে গণ্য হবে।
পরিশিষ্ট–১
সদস্যদের শপথ ও অঙ্গীকারনামা
ধারা–১৪৩ : সদস্যদের শপথ
আমি, ..............................................................., মহান আল্লাহর নামে (অথবা নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী) শপথ/অঙ্গীকার করছি যে—
১। আমি "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা"-এর গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সকল বৈধ সিদ্ধান্ত মেনে চলব।
২। আমি সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করব।
৩। আমি সংস্থার মর্যাদা, ঐক্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকব।
৪। আমি কোনো প্রকার দুর্নীতি, অনিয়ম, বৈষম্য, সহিংসতা বা সংস্থাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করব না।
৫। আমি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজ ও মানবকল্যাণে কাজ করব।
৬। আমি সংস্থার গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব এবং অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করব না।
৭। আমি দেশের প্রচলিত আইন এবং এই গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।
আল্লাহ আমাকে সহায় হোন। (আমিন)।
পরিশিষ্ট–২
পদাধিকারীদের দায়িত্ব গ্রহণের অঙ্গীকার
আমি, ..............................................................., কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা-এর ............................................... পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে অঙ্গীকার করছি যে—
আমি সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।
সংস্থার অর্থ, সম্পদ ও নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব।
ব্যক্তিগত লাভের জন্য কখনো সংস্থার পদ বা সম্পদ ব্যবহার করব না।
গঠনতন্ত্র, সাধারণ পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করব।
মানবসেবা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে আন্তরিকভাবে কাজ করব।
সংস্থার মূলমন্ত্র (Motto)
"ঐক্য • মানবতা • সেবা • উন্নয়ন"
সংস্থার স্লোগান
"মানবতার সেবায় ঐক্যবদ্ধ, উন্নত সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
প্রতিষ্ঠা ঘোষণা
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও মানবসেবামূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০ জুন ২০২৬ তারিখে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
পরিশিষ্ট–৩
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা
সংস্থার নাম: কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
প্রতিষ্ঠার তারিখ: ২০ জুন ২০২৬
প্রধান কার্যালয়:
গ্রাম: ১৮নং হাওলার সমাজ (কালাদরাপ)
ডাকঘর: খলিফার হাট (৩৮০৮)
উপজেলা: সদর
জেলা: নোয়াখালী
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পদবী
ক্রমিক
নাম
পদবী
০১
মোঃ মহি উদ্দিন
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
০২
মোঃ শাহিদুর রহমান
সহ-সভাপতি
০৩
মোঃ রাকিব
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
০৪
মোঃ শাহাজাহান
প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
০৫
মোঃ জিহাদুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক
০৬
মোঃ নুরুল ইসলাম (ওমান)
প্রতিষ্ঠাতা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
০৭
মোঃ নুরুল ইসলাম (কাতার)
সমাজকল্যাণ সম্পাদক
০৮
মোঃ নজরুল ইসলাম
কার্যকরী সদস্য / চর-জব্বর প্রতিনিধি
০৯
মোঃ মিলন (পিতা: মোঃ হোরন)
যুব বিষয়ক সম্পাদক
১০
মোঃ সহেল
এওজবালিয়া প্রতিনিধি
১১
মোঃ মিলন (পিতা: আব্দুল মান্নান)
প্রবাসী পরিদর্শক
১২
মোঃ শান্ত ইসলাম
প্রবাসী কার্যকরী সদস্য
১৩
মোঃ ফারুক হোসেন
১৮ নং হাওলার সমাজ উপদেষ্টা
১৪
মোঃ হেলাল উদ্দিন
সেনবাগ আঞ্চলিক প্রতিনিধি
অনুমোদন
এই গঠনতন্ত্রটি ২০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠিত কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা-এর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছে এবং সংস্থার সকল সদস্য এই গঠনতন্ত্র মেনে চলতে সম্মত হয়েছেন।
স্বাক্ষর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
স্বাক্ষর: ..............................................
নাম: মোঃ মহি উদ্দিন (ওমান প্রবাসী)
মো:+৯৬৮ ৯২৭১২৪৬৬
তারিখ: ..............................................
সহ-সভাপতি
স্বাক্ষর: ..............................................
নাম: মোঃ শাহিদুর রহমান (সৌদি প্রবাসী)
মো:+966 57304 2103
তারিখ: ..............................................
সাধারণ সভার অনুমোদন
সভাপতির স্বাক্ষর: ....................................
সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর: ............................
তারিখ: ................................................
সিলমোহর: কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
সদস্য ভর্তি ও সদস্যপদ পরিচালনা নীতিমালা
ধারা–১৪৪ : সদস্য ভর্তি নীতিমালা
১৪৪.১ সংস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রে বিশ্বাসী যে কোনো সৎ ও মানবসেবায় আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিক সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
১৪৪.২ নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দাখিল করতে হবে।
১৪৪.৩ আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যপদ অনুমোদন করবে।
১৪৪.৪ সংস্থা কোনো আবেদন গ্রহণ বা বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
ধারা–১৪৫ : সদস্য নিবন্ধন
১৪৫.১ প্রত্যেক সদস্যকে একটি স্বতন্ত্র সদস্য নম্বর প্রদান করা হবে।
১৪৫.২ সদস্যের সকল তথ্য সদস্য নিবন্ধন খাতায় এবং ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষণ করা হবে।
১৪৫.৩ সদস্যের তথ্য পরিবর্তিত হলে তিনি লিখিতভাবে সংস্থাকে অবহিত করবেন।
ধারা–১৪৬ : সদস্য পরিচয়পত্র
১৪৬.১ অনুমোদিত প্রত্যেক সদস্যকে সংস্থার অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করা হবে।
১৪৬.২ পরিচয়পত্র অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
১৪৬.৩ পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে দ্রুত সংস্থাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
ধারা–১৪৭ : সদস্যদের আচরণবিধি
প্রত্যেক সদস্য—
১। মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখবেন।
২। সংস্থার মর্যাদা রক্ষা করবেন।
৩। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক মতের ভিত্তিতে বৈষম্য করবেন না।
৪। সহকর্মীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করবেন।
৫। গঠনতন্ত্র ও সংস্থার সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।
ধারা–১৪৮ : সদস্যদের সুবিধা
সংস্থার সদস্যগণ—
প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সংস্থার মানবসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।
সংস্থার প্রকাশনা ও তথ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
যোগ্যতা অনুযায়ী সংস্থার বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
ধারা–১৪৯ : সদস্যপদ নবায়ন
১৪৯.১ সাধারণ সদস্যদের প্রতি বছর সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে।
১৪৯.২ নবায়নের নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যপদ স্থগিত করতে পারবে।
১৪৯.৩ পুনরায় নবায়নের মাধ্যমে সদস্যপদ সক্রিয় করা যাবে।
ধারা–১৫০ : সদস্যপদ সমাপ্তি
নিম্নলিখিত কারণে সদস্যপদ সমাপ্ত হবে—
স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে।
মৃত্যু হলে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিল হলে।
সংস্থা বিলুপ্ত হলে।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আর্থিক নীতিমালা ও ক্রয়নীতি
ধারা–১৫১ : আর্থিক নীতিমালা
১৫১.১ সংস্থার সকল আর্থিক কার্যক্রম সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
১৫১.২ সংস্থার অর্থ কেবল গঠনতন্ত্রে বর্ণিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
১৫১.৩ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা সংস্থার অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না।
ধারা–১৫২ : অর্থ গ্রহণের নিয়ম
১৫২.১ সকল অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক।
১৫২.২ নগদ অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা যেতে পারে।
১৫২.৩ সকল অর্থ গ্রহণের তথ্য হিসাব বই ও ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষণ করতে হবে।
ধারা–১৫৩ : অর্থ ব্যয়ের নিয়ম
১৫৩.১ অনুমোদিত বাজেটের আওতায় ব্যয় করতে হবে।
১৫৩.২ প্রতিটি ব্যয়ের জন্য বিল, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
১৫৩.৩ জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তী কার্যনির্বাহী সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
ধারা–১৫৪ : ক্রয়নীতি (Procurement Policy)
১৫৪.১ সংস্থার প্রয়োজনীয় মালামাল, সরঞ্জাম ও সেবা ন্যায্য মূল্য এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্রয় করতে হবে।
১৫৪.২ বড় অঙ্কের ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনে কমপক্ষে তিনটি মূল্য প্রস্তাব (Quotation) সংগ্রহ করবে।
১৫৪.৩ সর্বোত্তম মান, যুক্তিসঙ্গত মূল্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ধারা–১৫৫ : ক্রয় কমিটি
১৫৫.১ প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি একটি ৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট ক্রয় কমিটি গঠন করতে পারবে।
১৫৫.২ ক্রয় কমিটি ক্রয় প্রক্রিয়া তদারকি করবে এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবে।
ধারা–১৫৬ : সম্পদ রেজিস্টার
১৫৬.১ সংস্থার সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের জন্য একটি সম্পদ নিবন্ধন (Asset Register) সংরক্ষণ করতে হবে।
১৫৬.২ সম্পদ ক্রয়, হস্তান্তর, মেরামত ও বাতিলের তথ্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ধারা–১৫৭ : দান ও অনুদান ব্যবস্থাপনা
১৫৭.১ সকল দান ও অনুদান নির্ধারিত হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
১৫৭.২ দাতার ইচ্ছা ও শর্ত (যদি আইনসম্মত হয়) যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
১৫৭.৩ প্রাপ্ত অনুদানের ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজন হলে দাতাকে প্রতিবেদন প্রদান করা যেতে পারে।
ধারা–১৫৮ : আর্থিক জবাবদিহিতা
১৫৮.১ কার্যনির্বাহী কমিটি বছরে অন্তত একবার সদস্যদের কাছে সংস্থার আর্থিক অবস্থার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করবে।
১৫৮.২ যে কোনো আর্থিক অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
পরিশিষ্ট–৬
অফিস পরিচালনা নীতিমালা ও রেকর্ড সংরক্ষণ বিধি
ধারা–১৫৯ : অফিস পরিচালনা
১৫৯.১ সংস্থার প্রধান কার্যালয় গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত ঠিকানায় অবস্থিত থাকবে।
১৫৯.২ প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে শাখা অফিস স্থাপন করা যাবে।
১৫৯.৩ অফিসের সকল কার্যক্রম সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হবে।
ধারা–১৬০ : অফিস সময়সূচি
১৬০.১ কার্যনির্বাহী কমিটি অফিসের কার্যদিবস ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
১৬০.২ বিশেষ কর্মসূচি বা জরুরি প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অফিস পরিচালনা করা যেতে পারে।
১৬০.৩ সরকারি ছুটির দিনসমূহে অফিস বন্ধ থাকবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
ধারা–১৬১ : অফিস রেজিস্টার সংরক্ষণ
সংস্থায় নিম্নলিখিত রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হবে—
১। সদস্য নিবন্ধন রেজিস্টার।
২। উপস্থিতি রেজিস্টার।
৩। সভার কার্যবিবরণী রেজিস্টার।
৪। আয়-ব্যয় হিসাব রেজিস্টার।
৫। নগদ অর্থ (Cash Book) রেজিস্টার।
৬। সম্পদ (Asset Register) রেজিস্টার।
৭। দান ও অনুদান রেজিস্টার।
৮। চিঠিপত্র গ্রহণ ও প্রেরণ রেজিস্টার।
ধারা–১৬২ : অফিসিয়াল সিলমোহর ও লেটারহেড
১৬২.১ সংস্থার অনুমোদিত সিলমোহর, লোগো ও লেটারহেড কেবল অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যাবে।
১৬২.২ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ব্যতীত সিলমোহর ব্যবহার করা যাবে না।
১৬২.৩ কোনো সদস্য ব্যক্তিগত কাজে সংস্থার লেটারহেড, সিলমোহর বা লোগো ব্যবহার করতে পারবেন না।
ধারা–১৬৩ : নথিপত্র সংরক্ষণ
১৬৩.১ সংস্থার সকল গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
১৬৩.২ আর্থিক নথি, সভার কার্যবিবরণী, সদস্য তালিকা, নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
১৬৩.৩ প্রয়োজনে নথির ডিজিটাল (স্ক্যান) কপি সংরক্ষণ করা যাবে।
ধারা–১৬৪ : তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার
১৬৪.১ সংস্থা প্রয়োজনে অফিস ব্যবস্থাপনা, সদস্য তথ্য, হিসাবরক্ষণ ও যোগাযোগের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে।
১৬৪.২ সংস্থার অফিসিয়াল ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে পরিচালিত হবে।
১৬৪.৩ ডিজিটাল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব।
ধারা–১৬৫ : নথি পরিদর্শন
১৬৫.১ কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে সদস্যরা সংস্থার অগোপন নথিপত্র পরিদর্শন করতে পারবেন।
১৬৫.২ গোপনীয়, ব্যক্তিগত বা আইনগতভাবে সংরক্ষিত নথি অনুমতি ব্যতীত পরিদর্শন করা যাবে না।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
পরিশিষ্ট–৭
সভার কার্যবিবরণী, প্রস্তাব (Resolution) ও অফিসিয়াল নথির নমুনা
ধারা–১৬৬ : সভার কার্যবিবরণী (Minutes) প্রস্তুতকরণ
১৬৬.১ সংস্থার প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
১৬৬.২ কার্যবিবরণীতে নিম্নলিখিত তথ্য উল্লেখ থাকবে—
সভার তারিখ
সভার সময়
সভার স্থান
সভাপতির নাম
উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যা ও নাম
আলোচ্যসূচি
গৃহীত সিদ্ধান্ত
পরবর্তী সভার সম্ভাব্য তারিখ
১৬৬.৩ কার্যবিবরণীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করবেন।
ধারা–১৬৭ : প্রস্তাব (Resolution) গ্রহণের নিয়ম
১৬৭.১ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত লিখিত প্রস্তাব (Resolution) আকারে গ্রহণ করতে হবে।
১৬৭.২ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাব গৃহীত হবে, যদি গঠনতন্ত্রে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকে।
১৬৭.৩ গৃহীত সকল প্রস্তাব ধারাবাহিক নম্বরসহ সংরক্ষণ করতে হবে।
ধারা–১৬৮ : প্রস্তাব (Resolution) এর নমুনা
কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
প্রস্তাব নং: ..............
তারিখ: ....../....../..........
আজ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো—
....................................................................
....................................................................
....................................................................
সভাপতির স্বাক্ষর: ___________________
সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর: _______________
ধারা–১৬৯ : সভার কার্যবিবরণীর নমুনা
সংস্থার নাম: কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা
সভার ধরন: .....................................
তারিখ: ..........................................
স্থান: ............................................
সভাপতি: ........................................
আলোচ্য বিষয়সমূহ
১। ...................................................
২। ...................................................
৩। ...................................................
গৃহীত সিদ্ধান্ত
১। ...................................................
২। ...................................................
৩। ...................................................
সভাপতির স্বাক্ষর: ___________________
সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর: _______________
ধারা–১৭০ : অফিসিয়াল চিঠিপত্রের নিয়ম
১৭০.১ সংস্থার সকল অফিসিয়াল চিঠি অনুমোদিত লেটারহেডে ইস্যু করতে হবে।
১৭০.২ প্রত্যেক চিঠিতে স্মারক নম্বর, তারিখ, বিষয়, প্রাপকের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকতে হবে।
১৭০.৩ অফিসিয়াল চিঠিতে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকবে।
ধারা–১৭১ : নথির সংরক্ষণকাল
নিম্নোক্ত নথি সংরক্ষণ করা হবে—
সদস্য নিবন্ধন: স্থায়ীভাবে।
কার্যবিবরণী: স্থায়ীভাবে।
আর্থিক নথি: কমপক্ষে ৭ বছর।
অডিট রিপোর্ট: স্থায়ীভাবে।
ব্যাংক বিবরণী: কমপক্ষে ৭ বছর।
অফিসিয়াল চিঠিপত্র: প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
পরিশিষ্ট–৮
আচরণবিধি (Code of Conduct), স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা ও দুর্যোগকালীন কার্যক্রম
ধারা–১৭২ : আচরণবিধি (Code of Conduct)
সংস্থার প্রত্যেক সদস্য, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক নিম্নলিখিত আচরণবিধি মেনে চলবেন—
১৭২.১ সকল মানুষের প্রতি সম্মান, সৌজন্য ও মানবিক আচরণ প্রদর্শন করবেন।
১৭২.২ ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, পেশা বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করবেন না।
১৭২.৩ সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কাজ, বক্তব্য বা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবেন না।
১৭২.৪ সংস্থার সম্পদ, অর্থ ও তথ্য সততা ও দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করবেন।
১৭২.৫ সংস্থার অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট সংস্থার নামে প্রতিশ্রুতি প্রদান করবেন না।
১৭২.৬ সকল সদস্য পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।
ধারা–১৭৩ : স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা
১৭৩.১ সংস্থার মানবসেবামূলক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করা যাবে।
১৭৩.২ স্বেচ্ছাসেবকদের সংস্থার গঠনতন্ত্র ও নির্দেশনা মেনে কাজ করতে হবে।
১৭৩.৩ স্বেচ্ছাসেবকগণ কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধার দাবি করতে পারবেন না, যদি না কার্যনির্বাহী কমিটি বিশেষভাবে অনুমোদন প্রদান করে।
১৭৩.৪ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ, পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা সংস্থা প্রদান করতে পারবে।
ধারা–১৭৪ : দুর্যোগকালীন কার্যক্রম
১৭৪.১ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, মহামারী বা অন্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
১৭৪.২ ত্রাণ বিতরণ, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
১৭৪.৩ দুর্যোগকালীন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে একটি বিশেষ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা যাবে।
ধারা–১৭৫ : গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম
সংস্থা নিম্নোক্ত বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে—
শিক্ষা ও সাক্ষরতা
স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা
পরিবেশ সংরক্ষণ
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
রক্তদান কর্মসূচি
মাদকবিরোধী প্রচারণা
নারী, শিশু ও প্রবীণদের কল্যাণ
যুব উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি
সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ
ধারা–১৭৬ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার
১৭৬.১ সংস্থার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে পরিচালিত হবে।
১৭৬.২ কোনো সদস্য সংস্থার নামে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা বা মানহানিকর তথ্য প্রচার করতে পারবেন না।
১৭৬.৩ সংস্থার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ধারা–১৭৭ : চূড়ান্ত ঘোষণা
এই গঠনতন্ত্র "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা"-এর সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে গৃহীত হলো। সংস্থার সকল কার্যক্রম এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে সংশোধন করা যাবে।
সমাপনী ঘোষণা
এই গঠনতন্ত্রটি "কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা"-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছে। সংস্থার সকল সদস্য, কর্মকর্তা, উপদেষ্টা এবং স্বেচ্ছাসেবক এই গঠনতন্ত্রের সকল বিধান মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
এই গঠনতন্ত্রের কোনো বিধান বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে, সংশ্লিষ্ট আইন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই কার্যকর হবে।
সংস্থার উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবকল্যাণের স্বার্থে প্রয়োজনে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই গঠনতন্ত্র সংশোধন, সংযোজন বা পরিমার্জন করা যাবে।
এই গঠনতন্ত্র ২০ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
অনুমোদন
এই গঠনতন্ত্রটি কালাদরাপ স্বাধীন সংস্থা-এর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত ও গৃহীত হলো।
অনুমোদনের তারিখ: ....................................
স্থান: ১৮ নং হাওলার সমাজ (কালাদরাপ), খলিফার হাট (৩৮০৮), সদর, নোয়াখালী।
স্বাক্ষর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
স্বাক্ষর: ______________________
নাম: মোঃ মহি উদ্দিন
তারিখ: ______________________
প্রতিষ্ঠাতা : সহ-সভাপতি
স্বাক্ষর: ______________________
নাম: মোঃ শাহিদুর রহমান
তারিখ: ______________________
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
স্বাক্ষর: ______________________
নাম: মোঃ রাকিব
তারিখ: ______________________
সাধারণ পরিষদের অনুমোদন
সভাপতির স্বাক্ষর: ______________________
সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর: ______________________
সংস্থার সিলমোহর
(এখানে সংস্থার অফিসিয়াল সিল প্রদান করা হবে)